সময় প্রবাহ

No comments:
 
প্রায় তিন বচ্ছর হতে চলল হরিয়াণায় আছি। প্রত্যক্ষ ভাবে এখানের কোনো গ্রামের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। আর সারাবছর নানা রকম ঘটনার কথা শুনে বেশী যোগাযোগ না থাকাটাই বাঞ্ছিত বলে মনে হয়। আমাদেরকে একটা পাহাড়ের ধারে জঙ্গল কেটে ক্যাম্পাস বানিয়ে সিকিউরিটি গার্ডের সুরক্ষায় রেখেছে। একবার অবশ্য পাশের গ্রামের কিছু ছেলে একটি অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছিল।  তবে অবাঞ্ছিত ঘটনা তো আলাদা করে হরিয়াণায় নয়, সর্বত্র হচ্ছে। তাই আজ তিন বছর পরে দেখছি বিকৃত মানসিকতার তুলনায় ঠিকঠাক ও ভালো মানসিকতাই হরিয়াণা আমাদেরকে দিয়ে আসছে। সে অটো ড্রাইভার থেকে শুরু করে গ্রামের হাটে বাজারে নানা মানুষজন। সময় বয়ে যাচ্ছে, যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে যেত। হয়ত এখানে রাত বারোটায় গাড়ি থেকে মদ্যপেরা মেয়েদের সঙ্গে আসার প্রস্তাব দিচ্ছে, কলকাতায় তারা গাড়ি থেকে দেখছে আর ভাবছে। এই তো।
গত ৮ই মার্চ কোনরকম পূর্বাভাস না দিয়ে হুড়মুড় করে হরিয়ানায় এসে পড়ল শিলাবৃষ্টি। রুক্ষ এলাকা। সবাই ঝড় বলতে বোঝে ধূলো, বৃষ্টির একটু আর্দ্রতা পেলেই ময়ূর ডেকে ওঠে। ব্যালকনিতে ট্রাইপড রেখে সেই বৃষ্টিমাখা ঝড়ের ছবি তুলে ফেললাম উৎসাহর বশে। শেষ পর্যন্ত তোলা গেল না, কারণ গালের উপর ঠাশ করে এসে পড়ল একটি প্রমাণ সাইজের শিলা। বাকি সময়টা গালের শুশ্রষায় কেটে গেল!



পশ্চিমবাঙলায় থাকা লোককে হরিয়ানায় এনে ফেললে সে লোক অযাচিত মেঘ দেখে উছ্বসিত হবেই, তারপর আবার যদি শীতটা হঠাৎ ফেব্রুয়ারির শেষে চলে যাব বলে, আর মেঘ বৃষ্টি সেটাকে মার্চের শেষ পর্যন্ত ঠেলে দেয়, তাহলে সে তার আনন্দের পরিমাপ থাকবে কি?



কাজের শেষে সূর্যাস্তে ভাগ বসানোর কোনো রাস্তার মোড় নেই, বাড়ী ফেরবার তাড়া নেই, ট্রাফিক নেই। কাজ করতে করতেই চায়ের কাপ নিয়ে সূর্যাস্ত দেখতে সোজা ছাদে -

No comments:

 
অবসরে । ২০১৪ ।